শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

পদ্মা সেতু

এক বছরে লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত:
২৪ আগষ্ট ২০২৩, ১৬:২১

পদ্মা সেতু চালুর আগে প্রতিদিন ঢাকা থেকে ৫০ হাজার মানুষ লঞ্চে বরিশালসহ উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতো। সেতু চালুর এক বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা ১৭ হাজার কমে ৩৩ হাজার হয়েছে। এ হিসাবে ঢাকার লঞ্চযাত্রী কমেছে ৩৪ শতাংশ।
এ ছাড়া আগে ঢাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। এই সংখ্যা ২০ কমে এখন প্রতিদিন ঢাকা(সদরঘাট) লঞ্চ টার্মিনাল ছেড়ে যায় ৬০ টি লঞ্চ। অর্থাৎ এক বছরে লঞ্চ চলাচল কমেছে ২৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) শিপিং এ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জরিপকালে নৌ পরিবহন বিশেষজ্ঞসহ নৌযান মালিক ও শ্রমিক নেতা, লঞ্চ কর্মচারি, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এসসিআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ব্যবসায় মন্দার কারণে মালিকেরা এক বছরে অন্তত ২০টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ (ভেঙ্গে যন্ত্রাংশসহ লোহালক্কড় বিক্রি) করে ফেলেছেন। এছাড়া আরও অন্তত ছয়টি লঞ্চ স্ক্র্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকার সঙ্গে উপকূলীয় জনপদসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আধুনিক ও আরামদায়ক হয়েছে। মানুষ সড়কপথে স্বল্পসময়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে পারছে। এ কারণে ঢাকা ও বৃহত্তর বরিশালের মধ্যে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং লঞ্চের যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে।

তবে প্রতিবেদনে যাত্রী ও লঞ্চ চলাচল কমে যাওয়ার পেছনে সড়কপথে পদ্মা সেতুর ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নাব্যসংকট ও ঢাকার যানজটকেও দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যথাযথভাবে নদী খনন ও পলি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে অনেক নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া যানজট বিড়ম্বনায় সদরঘাট টার্মিনালে যেতে বহু মানুষের অনীহার কারণেও লঞ্চের যাত্রী কমে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এসসিআরএফ জানায়, আগে ঢাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশ ছিল বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিগামী লঞ্চের যাত্রী। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এসব জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়কপথে যাতায়াত করে। ফলে নৌপথে যাত্রী ও লঞ্চ- দুটোই কমেছে।

যদিও লঞ্চমালিকরা দাবি করেন, ৬০ শতাংশ যাত্রী কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা চরম সংকটে পড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিতে পারেননি তারা। বরং সরকারি তথ্য অনুযায়ী, লঞ্চ ব্যবসা এখনও লাভজনক। তবে আগের তুলনায় মুনাফার হার কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মালিকরা দাবি করেন, প্রতিদিন ৩০-৩৫টি লঞ্চে মাত্র ৫-৬ হাজার যাত্রী ঢাকা ছেড়ে যায়। অন্যদিকে সরকারি তথ্য মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬০টি লঞ্চ ঢাকা ছেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের বরাত দিয়ে এসসিআরএফ জানায়, শনিবার(১৯ আগস্ট) ঢাকা নদীবন্দর থেকে সদরঘাট টার্মিনাল ও পার্শ্ববর্তী ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে মোট ৬২টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এর মধ্যে চাঁদপুর অঞ্চলের ২২, বরিশাল অঞ্চলের ১০, ভোলা অঞ্চলের ১৪, পটুয়াখালী অঞ্চলের ৬ এবং অন্যান্য অঞ্চলের ১০টি লঞ্চ ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর