প্রকাশিত:
২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪১
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী লিটন মিয়াকে অপহরণের পর মারধর করে রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিরামকুল এলাকায় জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়কের পাশে তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে লিটন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারের পর প্রার্থী লিটন মিয়া জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জামালপুরে পৌঁছান। রাতেই শহরের বিজয় চত্বরে একটি হোটেলে খাবার খান।
পরে হোটেল থেকে বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাস্তার পাশে হাঁটাহাঁটি করার সময় একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তার হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করা হয়। পরে মেলান্দহ উপজেলার মহিরামকুল এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাকে নামানো হলে তিনি কৌশলে পালানোর চেষ্টা করেন।
কিছুদূর দৌড়ানোর পর দুর্বল হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়।
লিটন মিয়া জামালপুর-৩ আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর গ্রামে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি লিটন মিয়া নিখোঁজ হয়েছেন।
পরে তার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানান— তিনি ঢাকা থেকে বেলা ১১টার দিকে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে দুপুর থেকেই তিনি ফোন বন্ধ রাখেন। জামালপুরে এসে কৃষ্টপুর এলাকায় তার এক বোন জামাইকে সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা যায়। পরে রাতে আবার জামালপুর শহরে আসেন। রাত ১১টার দিকে একজন ফোন করে জানান, লিটন মিয়াকে মহিরামকুল এলাকায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, কে বা কারা তাকে সেখানে ফেলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন: