প্রকাশিত:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:৫৩
মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যে ভূমিধসে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে বর্ষণে বোর্নিও দ্বীপাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাজধানী কোটাকিনাবালুসহ নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে সাম্প্রতিক বন্যার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে সোমবার, যখন ধ্বংসাবশেষ রাজধানীর প্রান্তে একটি অনানুষ্ঠানিক বাসভবনে আঘাত হানে।
এতে চার শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছে বলে নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে। ১০ বছর বয়সী এক মেয়েসহ আরো তিনজন সোমবার কোটাকিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পূর্বে গানা এলাকায় আরেকটি ভূমিধসে নিহত হন। আর গত সপ্তাহে শহরের বাইরে পেনামপাং এলাকায় ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ কাদায় চাপা পড়ে মারা যান।
গত ১০ দিন ধরে উত্তর-পূর্ব বোর্নিওর সাবাহ অঞ্চলে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং মালয়েশিয়ার দরিদ্রতম এই রাজ্যে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাবাহর নিম্নাঞ্চলগুলো নিয়মিত প্লাবনের ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা মৌসুমি বর্ষার সময়।
মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি সোমবার রাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির জরুরি সংস্থাগুলোকে ওই অঞ্চলে উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে মোতায়েন করেছেন।
সাবাহ সরকার এ বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য মঙ্গলবার মালয়েশিয়া দিবস উদযাপন বাতিল করেছে। যদিও বৃষ্টি কমেছে এবং বন্যার পানি সরে যেতে শুরু করেছে, তবে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
৪৪ বছর বয়সী অলিভার গোলিংগাই স্থানীয় দৈনিক দ্য স্টারকে বলেন, ‘আমরা শুধু শান্ত থাকার চেষ্টা করতে পারি, ঘরে বন্যা আর কাদা সামলাতে। আমার কোনো উদযাপনের কথা ভাবার সময় নেই, কারণ এখন মূল লক্ষ্য বন্যা সামলানো আর কাদা পরিষ্কার করা।’
মন্তব্য করুন: