প্রকাশিত:
২৪ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০৭
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান হিসেবে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, কক্সবাজারবাসী নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাদের ভার নিতে পারবে না। তাই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ।
রবিবার (২৪ আগস্ট) অষ্টম রোহিঙ্গা বার্ষিকী উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশন ও সিসিএনএফ কর্তৃক ‘বাংলাদেশে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা : মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং টেকসই সমাধানের দিকে পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তারা।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ ও সিসিএনএফের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বক্তৃতা করেন দুর্যোগ ফোরামের গওহার নঈম ওয়ারা, হোয়াইকং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহমেদ আনোয়ারী, অ্যাডভোকেট সাকি এ কাওসার, পালংখালী ইউনিয়নের মোজাফফর আহমেদ, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ, ইমাম খাইর ও তৌহিদ বেলাল, সেভ দ্য কক্সবাজারের চেয়্যারমান আব্দুর রহমান হাশেমী, অগ্রযাত্রার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এনজিও প্ল্যাটফর্মের আমির হোসেন ও সুকর্ণা আবদুল্লাহ।
ওয়েবিনারে মূল নোট উপস্থাপন করেন হিউম্যানিটেরিয়ান রেসপন্স অধিবেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম। তিনি দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট ও সম্ভাব্য টেকসই সমাধান উপস্থাপন করেন।
তিনি আরো বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণরূপে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল এবং সাম্প্রতিক তহবিল হ্রাসের কারণে মানবিক সংস্থাগুলো সহায়তা হ্রাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর স্বীকৃতি না দিলে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারবো না। শিক্ষা রোহিঙ্গা শিশুদের অধিকার যা বঞ্চিত করতে পারি না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থানীয় পণ্য সামাগ্রী ও সম্পদের ব্যবহার যেন করা হয়।
সর্বোপরি রোহিঙ্গাদের জন্য কি কি করা হবে তার একটি রোড়ম্যাপ তৈরি করা হয়। সাকি এ কাউসার বলেন, কক্সবাজারের মামলা জটের মূল কারণ রোহিঙ্গা শরণার্থী। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে ইয়াবা, ধর্ষণ, মানবপাচারের মামলার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যার কারণে মামলাগুলো আর আগাচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা আদালত তৈরির সুপারিশ করেন তিনি।
নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন হলো একমাত্র চূড়ান্ত এবং টেকসই সমাধান। প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ২৫ শতাংশ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
মোজাফফর আহমেদ বলেন, যেই রোহিঙ্গা শিশুটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে জন্ম নিয়েছিল, আজ তার অনেকগুলো চাহিদা হয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার দরকার। কাজেই মানবিক সহায়তায় কোনভাবেই কাটছাট কাম্য নয়। বরং টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের জন্য যদি মানবিক সহয়তা বাড়ানো না হয়, তাহলে তার চাপ স্থানীয় মানুষের মধ্যে এসে পড়বে। বৈদেশিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বরোপ করেন এনজিও প্লাটফর্মের আমির হোসেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, স্থানীয়দের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
সুকর্ণা আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যের সুরক্ষা ও স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিতে হবে। স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের কথা বিবেচনায় নিতে হবে। এজন্য আসিয়ানকে কাজে লাগাতে হবে।
মন্তব্য করুন: