প্রকাশিত:
২৩ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:১১
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ইউ টার্নে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আপাতত ওই ইউ টার্নটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান বিন হাসান ও হাইওয়ে পুলিশের লালমাই থানার ওসি মো. আদেলসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
এর আগে গত ২২ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিমেন্টবোঝাই একটি লরি প্রাইভেট কারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হয়।
নিহতরা কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহন ও লরির চালকসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করেন। মামলার বিষয়টি আবুল কালাম নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজে দেখিছি এই দুর্ঘটনার জন্য হানিফ পরিবহনের চালক ও লরি চালক দায়ী। লরিটি দ্রুতগতিতে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়, এতে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করেছেন।’ এদিকে, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ পরিদর্শনে পদুয়ার বাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ইউ টার্নটি আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান বিন হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল যানবাহনকে সদর দক্ষিণ উপজেলার দয়াপুর ইউ টার্ন দিয়ে ঘুরে আসতে হবে। আগামীকাল রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ে সমন্বয় সভায় স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মন্তব্য করুন: