প্রকাশিত:
২৩ আগষ্ট ২০২৫, ১৭:২৭
আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে প্রত্যাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিবেশকে চমৎকার এবং গণতান্ত্রিক বলে মনে হলেও কিছু ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ড শঙ্কা তৈরি করছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহর শাখার আয়োজনে মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ডাকসুর নমিনেশনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ তারিখ থেকে মূলত প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, একটি চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে এবং একটি ডেমোক্রেটিক সিচুয়েশন তৈরি হয়েছে। নিজ নিজ জায়গা থেকে সকল প্রার্থীরা তারা প্রচার-প্রচারণা করছে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ওপর, বিশেষ করে তৎকালীন ভিপি প্রার্থীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, আঘাত ও হত্যাচেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, কিছু ছাত্র সংগঠনের সিনিয়র নেতারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছে এবং তাদের একজন বলেছেন, কিসের ডাকসু? ডাকসু-টাকসু কিছু হবে না। এই ধরনের মন্তব্য আতঙ্ক তৈরি করে। তার আশঙ্কা, ডাকসু নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য কোনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না।
সাদ্দাম বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে এবং ডাকসু নির্বাচনের জন্য সকল প্রার্থী যারা ঘোষিত হয়েছে, তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাম ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, যারা একজোট হয়েছে, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা ও মিটিংয়ে অধিকাংশ সময় ছাত্রশিবির নিয়ে মিথ্যাচার, ট্যাগিং, ফ্রেমিং, বুলিং ও আদারিং করে। যারা এমন কথাগুলো বলে, তাদের অবস্থানটা হচ্ছে টোটাল ব্যানার ধরার লোক তাদের নাই। ১২টা সংগঠন ঐক্যবদ্ধ জোট দেয়, ১২ জনের মধ্যে... ১২ জন ছাড়া অতিরিক্ত কোনো লোক পাওয়া যায় না তাদের।
তিনি আরও বলেন, এমন ছাত্র সংগঠন যখন বলে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না, তাদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে না, এরকম জাতীয় কথাগুলো যখন বলে, তখন আমাদের কাছে মনে হয় যে, ওই ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা আবার তাদের ওপর চেপে বসেছে।
ছাত্রশিবির সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, এই সংগঠনগুলোই ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসিত করেছে।
শাহবাগ তৈরি করেছে তারা, এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির যখন একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, তখন এই বামজোট বলেছিল তাদের আন্দোলন নাকি 'জঙ্গি আন্দোলন', 'সন্ত্রাসী আন্দোলন'।
এভাবে একের পর এক লাল সন্ত্রাসের তারা ডাক দেয়, তারা বিভিন্ন অপকর্মের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে তারা যুগের পর যুগ প্রমোট করেছে। ১৯৭২ সালের পরপরই দেখছেন যে, বাকশাল কায়েমের পরে, এরপরে তারা আনন্দ মিছিল বের করেছে ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে মিলেমিশে।
তিনি বলেন, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদেরকে ডেমোক্রেসির পক্ষে বললেও তারা আসলে স্বৈরাচারী। তারা টোটালি অটোক্রেসি টাইপের বা তাদের যে ফিলোসফি, কমিউনিস্ট আদর্শ, এই আদর্শকে প্রমোট করার জন্য তারা সবসময় মব-ক্রেসির ভেতরে যাচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের এই নেতা অভিযোগ করেন, বাম সংগঠনগুলো 'বট বাহিনী', 'হাবিজাবি' ইত্যাদি বলে মিথ্যাচার করে।
কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে সাধারণ ছাত্ররা মিছিল-মিটিং করলে তারা বলে, এটা ছাত্রশিবির করাচ্ছে। সাধারণ ছাত্রদের কোনো অধিকার হলে যেমনি ছাত্রলীগ শিবির ট্যাগ দিয়ে মারতো, অত্যাচার-নির্যাতন করতো, আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, সেই একই রাস্তা অবলম্বন করার জন্য তারা ছুটছে। আমরা এ জাতীয় চরিত্রের তীব্র নিন্দা জানাই।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করছি যথেষ্ট ভালো একটা অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাজ করছে। তবে অনলাইন কাঁদা ছোড়াছুড়ির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বামরা পরিকল্পিতভাবে বলছে, ছাত্রশিবিরের 'বট বাহিনী' আছে। বাম সংগঠনগুলো নিজেরাই 'কাঠের কেল্লা' বা বিভিন্ন 'বাহিনী' তৈরি করে বুলিং করছে। ছাত্রশিবিরের প্যানেলে যে মেয়েদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে যৌন হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাপারে মারাত্মক লেভেলের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম সুস্থ ধারার রাজনীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই পুরাতন ট্যাগিং, ফ্রেমিং, '৭১-কে সামনে নিয়ে এসে যে দলীয়করণ এবং হচ্ছে বিভাজনের রাজনীতি যা আওয়ামী লীগ করছে, সেই একই স্টাইল এখন বামদের মধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি। 'শিবির কেন ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে পারবে না? এটা তো বৈধ ছাত্র সংগঠন। সরকারের সকল নিয়ম মেনে আমরা ডেমোক্রেটিক ওয়েতেই হচ্ছে এই দেশে রাজনীতি করছি। সেখানে রাজনীতি করতে পারবে না এই বলাটা হচ্ছে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা।
বাম সংগঠনগুলো ছাত্রশিবিরের বৈধতাকে অস্বীকার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে 'গণহত্যাকারী' সংগঠনের তকমা লাগায়। অথচ বাম সংগঠনগুলোর জন্মগত ইতিহাসেই ব্যাংক লুট, থানা লুট ও 'লাল সন্ত্রাসের' ইতিহাস আছে। এখন পর্যন্ত যে সিচুয়েশনটা আছে, সেটা ঠিক আছে আমার কাছে মনে হচ্ছে। কিন্তু সামনের ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা শঙ্কিত।' তিনি প্রশাসনের প্রতি আবারও ডাকসু নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শাখা সভাপতি মো. আমজাদ আলী, সেক্রেটারি মো. আব্দুল মতিন, মাওলানা আব্দুল হাকিম (অঞ্চল টিম সদস্য, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল ও সাবেক জেলা আমির, ঠাকুরগাঁও), মু. দেলোয়ার হোসেন (কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী) এবং অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান (আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা)।
মন্তব্য করুন: