প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৫, ১৬:২৮
রোগা ছিপছিপে চেহারা বানাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধূ। তার অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করার জন্য বাধ্য করেন স্বামী। শরীরচর্চা না করলেও, খাবার খেতেও দিতেন না স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।
গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামীর ইচ্ছে বলিউড অভিনেত্রীদের মতোই স্ত্রীর ফিগার হবে। বিশেষত অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির ফিগার তার সবচেয়ে পছন্দ। নোরার মতো লাস্যময়ী শরীরের জন্যই স্ত্রীকে টানা কয়েক ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে জোর করেন স্বামী।
এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের গাজিয়াবাদের মুরাদনগরে। এ ঘটনার পর ওই ভুক্তভোগী নারী মামলা করেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, অভিযোগকারী ওই নারীর বয়স ২৬ বছর। চলতি বছরের ৬ মার্চ তার বিয়ে হয় মীরাটের সরকারি স্কুলে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী শরীরচর্চা শিক্ষক শিবম উজ্জ্বলের সঙ্গে। বিয়েতে কনের পরিবার প্রায় ৭৭ লাখ রুপি খরচ করে, যার মধ্যে ২৪ লাখ রুপির একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও, ১৬ লাখ রুপির গয়না এবং ১০ লাখ রুপি নগদ প্রদান করা হয়।
তবু বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন করে আরো নগদ অর্থ, জমি ও দামি পোশাকের জন্য তাকে হয়রানি করতেন বলে জানান ওই নারী।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি তাকে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত রাখতেন, স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাতে দিতেন না এবং স্বামীকেও তার সঙ্গে বাইরে যেতে দিতেন না। একবার শুধু মশারি না টানায় স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে একা রেখে নিজের কক্ষে চলে যান। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গালাগালা করতেন এবং স্বামী শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন।
শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে নিয়মিতভাবে শরীর নিয়ে অপমান করা হতো। নারী জানান, ‘আমার গড়ন নিয়ে স্বামী আমাকে প্রায়ই মোটা ও কালো বলত। আমার মতো কাউকে বিয়ে করে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি আরো জানান, স্বামী নারীদের অশালীন ভিডিও দেখতেন এবং অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। একবার এক নারী ‘মাহি’র সঙ্গে তার চ্যাট ধরে ফেললে স্বামী তাকে চড় মারে।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, নিজের গর্ভধারণের খবর শ্বশুরবাড়িকে জানালে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। পরে তার ননদ রুচি একটি ওষুধ খেতে দেন। পরে তিনি অনলাইনে খুঁজে জানতে পারেন, সেটি গর্ভপাতের ওষুধ। এর কিছুদিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, তার গর্ভপাত হয়ে গেছে।
এরপর গত ২৬ জুলাই তিনি শ্বশুরবাড়ি ফিরে গেলে তারা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি এবং তার গয়না ও কাপড়চোপড় ফেরত দেয়নি। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
নারীটি ১৪ আগস্ট গাজিয়াবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—পণদানের জন্য চাপ সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, গর্ভপাত ঘটানো, ব্ল্যাকমেইল, এবং বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ।
গাজিয়াবাদের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) ধবল জয়সওয়াল জানান, স্বামী শিবম উজ্জ্বল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা (এফআইআর) নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন: