প্রকাশিত:
১৯ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০৭
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক নারীর প্রায় অর্ধগলিত গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের ১৫ ঘণ্টা পর পরিচয় মিলেছে। তিনি বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিশাটোলা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যোগিবাড়ী বুড়িতলা গ্রামসংলগ্ন বিলের ধারে এক নির্জন আমবাগানে মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে গোমস্তাপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওই নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের ডান ঊরুতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। নিহতের পরনে শাড়ি ও ব্লাউজ ছিল। তার শাড়ির সঙ্গে চাবির গোছা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া মরদেহের আশপাশে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু মেলেনি। গোমস্তাপুর থানার ওসি ওয়াদুদ আলম বলেন, আজ (১৯ আগস্ট মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারীর ছেলে, মেয়ে ও ভাই তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগ পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করা যায়নি। কে বা কারা এবং কেন তাকে খুন করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গত রবিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে জেসমিন নিখোঁজ ছিলেন। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
নিহতের ছেলে রাজমিস্ত্রী আলমগীর হোসেন জানান, তার মা গত রবিবার দুপুরের পর একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কামাত গ্রামে একমাত্র মেয়ে আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। আনোয়ারা ওই গ্রামের নাইমুল ইসলামের স্ত্রী। সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন।
কে বা কারা তার মাকে হত্যা করতে পারেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি আলমগীর।
ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, অন্য কোথাও হত্যা করে ওই স্থানে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। যা ঘটার ওই স্থানেই ঘটেছে। স্থানীয়রা সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান।
তিনি আরো বলেন, জেসমিনের প্রথম স্বামী ও সন্তানদের বাবা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালমোড় এলাকার আনারুল ইসলামের সঙ্গে তার আট বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে বাঙ্গবাড়ীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রজনাথপুরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্বামীর নামও আনারুল ইসলাম। বছরখানেক পর এই সংসারটিও ভেঙে যায়। জেসমিনের প্রথম স্বামী আনারুল এখন অসুস্থ। তবে শোনা যায়, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।
চেয়ারম্যান আরো বলেন, জেসমিনের মরদেহ যেখানে পাওয়া যায় তা কামাত গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
মন্তব্য করুন: