প্রকাশিত:
৬ আগষ্ট ২০২৫, ১৮:০৩
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের সাদুল্লারচরে এক বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবুল হাশেম মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সাহসী ভূমিকায় পাঁচ ডাকাত ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ডাকাতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই পাটধা কাঁঠালিয়া গ্রামের মো. সেলিম মিয়া, করিমগঞ্জ উপজেলার চরকরনশি গ্রামের আব্দুর রহমান, নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার মো. আসলাম ও সবুজ এবং শিবপুর উপজেলার দক্ষিণ সাদারচরের আল আমিন মিয়া।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ‘সবুজ’ নামে এক ব্যক্তি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে আসে। ভাড়ার অজুহাতে তিনি ঘরের ভেতরটাও দেখে নেয়। পরে রাত ১১টার দিকে ফোনে জানায়, ভাড়ার কাগজপত্র প্রস্তুত আছে।
তারা ভাড়া নেবে। ওই রাতে বাড়ির সবাই খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ২টার দিকে নিচতলার গেটের তালা এবং দোতলার দরজার লক ভেঙে ৮ থেকে ১০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে ঢোকে। তারা ঘরে প্রবেশ করেই আবুল হাশেম মাস্টারের স্ত্রীর গলা থেকে দেড় ভরির স্বর্ণ চেইন ছিনিয়ে নেয়।
এরপর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৪২ হাজার টাকা এবং একটি অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
আবুল হাশেম মাস্টারের ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘সবুজ নামের লোকটি আমাদের এলাকার এক পরিচিত লোকের নাম ভাঙিয়ে ভাড়া নিতে এসেছিল। ঘটনার রাতে আমি বাসায় ছিলাম, কিন্তু নিচতলায় কী হচ্ছে টের পাইনি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর চিৎকার শুরু করি, গ্রামবাসী ছুটে এসে ধাওয়া দেয়। শেষ পর্যন্ত পাঁচজন ধরা পড়ে এবং গণপিটুনি খায়।
’আহত অবস্থায় ধরা পড়া ডাকাতদের মধ্যে একজনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরেকজন অবজারভেশনে আছে এবং বাকি তিনজনকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মফিজুর রহমান।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ডাকাতির ঘটনায় ৫ জনকে আটক দেখানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন: