প্রকাশিত:
১৯ জুলাই ২০২৫, ১৮:৩৬
সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য এবং বিএনপি ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৯ জুলাই) শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তারেক রহমান বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। তাই টালবাহানা না করে দ্রুত জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান শুধু দেশে নয়, সৎ, সাহসী ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছেও নন্দিত ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, তার একটাই পরিচয়—তিনি বাংলাদেশের মানুষ। রেজাউল করিম বাদশা আরো বলেন, তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ তৈরির কারিগর। যারা কখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা ভাবেনি, তারাই আজ জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে।
সমাবেশে তিনি আরো বলেন, টালবাহানা না করে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিয়ে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে একটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ইচ্ছা করলে যেকোনো সময় অশালীন মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শান্তিপ্রিয় বলেই তারা হয়তো এবার পার পেয়ে গেছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে কটাক্ষ করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
জাতীয় নির্বাচন না করার পাঁয়তারা করছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, তারেক রহমান জন্মগতভাবেই দেশকে ভালোবাসতে জানেন। তাই ভদ্রতা, আচরণ ও শালীনতা কী, তা শেখার জন্য জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ অনুসরণ করা উচিত। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর চৌধুরী হেনা বলেন, তারেক রহমান যখন বলেছেন যে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে, তখন বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সেই দাবি আদায় করবে।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, একটি কিশোর সংগঠন চাঁদাবাজির মাধ্যমে চলেছে এবং তাদের দুই শীর্ষ নেতা গত সাত মাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, নিবন্ধনহীন এই সংগঠনটি হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।
সমাবেশ শেষে প্রায় এক লাখ লোকের জনসমাগম থেকে নেতাকর্মীরা ‘জামায়াত ইসলাম রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘স্বৈরাচার রাজাকার, মিলেমিশে একাকার’, ‘আমরা সবাই জিয়ার সেনা, ভয় করিনা বুলেট বোমা’, ‘জিয়া তুমি আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রুফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরি হিরু, জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লায়লা আরজুমান, সাধারণ সম্পাদক নাজমা বেগম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি ফেরদৌস আজম সুমন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সন্ধান সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশসহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন: