শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

ন্যায়বিচারের গুরুত্ব প্রদানে ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৭ জুলাই ২০২৫, ১৫:৪৭

ইসলাম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যার মূলভিত্তিই হলো ন্যায় ও সাম্য। মানুষ তার ব্যক্তি, পারিবার, সামাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সত্য ও সুবিচারের অনুসারী না হলে, সেই সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিকতা ধ্বংস হয়ে যায়। তাই ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার এমন একটি মূলনীতি, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সমাজে ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

কোরআনের আয়নায় ন্যায়বিচারের:

আল্লাহ তায়ালা বহু আয়াতে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন।

কোরআনের ভাষা অত্যন্ত দৃঢ় ও অসাধারণ শক্তিশালী। যেমন:
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ﴾

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদেশ দেন ন্যায়বিচার, সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার জন্য।’ (সুরা: আন-নাহল, আয়াত : ৯০)

এই আয়াতটি ইসলামী সমাজব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে "আদল" (العدل) অর্থাৎ ন্যায়বিচারকে সর্বপ্রথমে উল্লেখ করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একটি সমাজ টিকে থাকার প্রধান শর্তই হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠা।

অন্য এক আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন:

﴿وَأَقِيمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيزَانَ﴾

‘তোমরা ওজন করো ন্যায়ের সঙ্গে এবং মাপে কম দিও না।’ (সুরা: আর-রহমান, আয়াত : ৯)

এই আয়াত শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, বরং প্রতিটি বিচার, প্রতিটি সম্পর্ক এবং প্রতিটি সামাজিক লেনদেনে ন্যায়ের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

পক্ষপাতহীনতার প্রতি কোরআনের আহ্বান

ইসলামে ন্যায়বিচার এমন এক নৈতিক আদর্শ, যা শত্রুর প্রতিও সমভাবে প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ﴾

‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়ের বিপরীত আচরণে প্ররোচিত না করে।

ন্যায়বিচার করো। এটাই তাকওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি।’ (সুরা: আল-মায়িদাহ, আয়াত :৮ )
এই আয়াতের ভাষা ও অত্যন্ত উচ্চতর দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ব্যক্তিগত রাগ-ঘৃণাও যেন আমাদেরকে ন্যায়ের পথ থেকে সরিয়ে না নেয়। এটাই ইসলামের পরিপূর্ণতা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে ন্যায়বিচারের বাস্তব নমুনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানবজাতির সর্বোচ্চ ন্যায়পরায়ণ নেতা।

তিনি বলেন:
«المقسطون على منابر من نور عند الله، عن يمين الرحمن عز وجل، وكلتا يديه يمين، الذين يعدلون في حكمهم وأهليهم وما وُلوا»

‘যারা ন্যায়পরায়ণ, তারা আল্লাহর নিকট নূরের মিনারে থাকবে, আর তারা আল্লাহর ডান পাশে থাকবে। তারা হলো তারা, যারা তাদের শাসনে, পরিবারে ও কর্তৃত্বে ন্যায়বিচার করে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৮২৭)

এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, ন্যায়বিচার শুধু শাসকের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি ব্যক্তি; যার যেকোনো ধরনের দায়িত্ব আছে। তার জন্যই এটি ফরয।

পক্ষপাতের বিপক্ষে কঠোর হুশিয়ারি

রাসূল (সা.) পক্ষপাতের বিপক্ষে কতোটা কঠোর মানসিকতা লালন করতেন সে ব্যাপারটি বুঝতে হলে দেখুন তিনি নিজের কন্যা ফাতিমাহ (রা.)-এর নাম নিয়ে কি বলেন:

«وأيم الله، لو أن فاطمة بنت محمد سرقت، لقطعت يدها»

‘আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাহ-ও চুরি করত, তাহলে আমি তার হাতও কেটে দিতাম।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৭৮৮)

এই দৃঢ়, কঠোর আর মানবিক হংকার কার নাম নিয়ে দিয়েছেন বুঝতে পারছেন ব্যপারটি?! সেই ফাতিমা যিনি রাসুল (সা.) কলিজার টুকরা। কাজেই এই হংকার মানুষের ভেতরে ন্যায়বিচার বিষয়ে এমন দৃঢ়তা সৃষ্টি করে, যা আত্মীয়তা, জনপ্রিয়তা বা সামাজিক মর্যাদার প্রভাবেও নষ্ট হয় না।

ইসলামে বিচারহীনতার পরিণতি

যেসব সমাজে ন্যায়বিচার নেই, সেখানে জুলুম ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

«اتقوا الظلم، فإن الظلم ظلمات يوم القيامة»

‘জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কারণ জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৮)

এ হাদিস ইঙ্গিত দেয় যে, পৃথিবীতে করা জুলুম আখিরাতে অন্ধকার হয়ে উঠবে। তাই ন্যায়বিচার কেবল সামাজিক চাহিদা নয়, বরং তা ব্যক্তির পরকালীন মুক্তির পথও বটে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ন্যায়বিচার এমন একটি চিরন্তন মূল্যবোধ, যা সকল ধর্ম, জাতি, সম্প্রদায় এবং শত্রু-মিত্র সকলের প্রতি সমভাবে প্রযোজ্য। ইসলামী সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা না হলে ইসলাম বাস্তবে কার্যকর হয় না। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র; সবক্ষেত্রে ন্যায় অবলম্বনই ইসলামের সফলতা ও সৌন্দর্য।

‘আদল (العدل) ছাড়া ইসলাম পূর্ণ হয় না, এবং জুলুম (الظلم) নিয়ে কেউ প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না’ এটাই হোক মুসলিম সম্পদায়ের চেতনা। এটাই মুসলিম সম্পদায়ের বিশ্বাস। এটাই হোক মুসলিম সমাজের পথ চলার অবলম্বন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ন্যায়ের পথে অবিলচল থাকার তাওফিক দান করুন।

 

 

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর