শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

সিরিয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত কমপক্ষে ৩০

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৪ জুলাই ২০২৫, ১৪:৫১

দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়েইদা শহরে বেদুইন সুন্নি উপজাতি ও দ্রুজ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো বহু মানুষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) নামের একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা বলেছে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৭ জন।

আহতের সংখ্যা শতাধিক।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে সিরিয়ায় একটি নতুন ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, যারা দেশটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে গোটা দেশ এখনও একটি ভঙ্গুর ও অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিগত বছরের শেষ দিকে হায়াত তাহরির আল-শাম নামক একটি সুন্নি ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী দামেস্ক দখল করে নেয় এবং দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেশ শাসন করে আসা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, সংঘর্ষ বন্ধ ও পরিস্থিতি শান্ত করতে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। তারা জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছে। সুয়েইদা প্রদেশের গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ‘আত্মসংযম বজায় রাখা ও জাতীয় সংস্কারের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার’ আহবান জানিয়েছেন। দ্রুজ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতারাও সংঘর্ষ বন্ধের আহবান জানিয়েছেন।

এর আগেও, এপ্রিল ও মে মাসে নতুন নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়। উল্লেখ্য, দ্রুজ ধর্ম একটি শিয়া ইসলামের শাখা, যাদের বড় জনগোষ্ঠী লেবানন, জর্দান ও ইসরায়েলেও রয়েছে। আসাদ সরকারের শাসনামলে এই সম্প্রদায়ের মানুষরা সাধারণত সরকারপন্থী ছিলেন, কারণ তারা মনে করতেন সরকারই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে ১৩ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের পর তাদের অবস্থান আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

এই মাসের শুরুতে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন দ্রুজ নাগরিক জানান, তারা শুধু শারীরিক আক্রমণের ভয়েই নয়, বরং নতুন সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার শিয়া মতাবলম্বী আরো একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী—আলাউই সম্প্রদায়ের শত শত মানুষও সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি রাজধানী দামেস্কের একটি চার্চেও হামলা হয়েছে, যাতে উপাসনারত অনেকেই নিহত হন।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সিরিয়া সফর করেছেন। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ মন্ত্রী সিরিয়া সফর করলেন।

 

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর