শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

গোলাম মাওলা রনি

বিপ্লব সব সময় বিপ্লবীদের খেয়ে ফেলে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২ জুলাই ২০২৫, ১১:৩৭

গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণআন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের প্রাপ্তি ও ব্যর্থতা নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নিয়মিত আলোচনায় কথা বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। আলোচনায় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্টে বাঙালির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঐতিহ্য নতুন মাত্রা পায়।

তবে তিনি একে বিপ্লবের বদলে ‘গণবিস্ফোরণ’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘আমাদের দেশের এটাকে আমরা এখন বিপ্লব বলতে পারছি না। এর কারণ হলো একটা বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে নেতা নির্বাচন করে।

যুদ্ধ করে বিপ্লবকে জনপ্রিয় করে। এটা ছিল অনেকটা গণবিস্ফোরণের মতো ঘটনা। আপনি লক্ষ করবেন যে, জুলাই এবং আগস্টে গৃহবধূ রাস্তায় নেমে এসেছে, শিশুরাও রাস্তায় নেমে এসে একটা ঢিল ছুড়েছে।’
তার মতে, ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১০–১২ কোটি মানুষ এই বিস্ফোরণে শারীরিক বা মানসিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে রনি বলেন, ‘বিপ্লব সবসময় তার বিপ্লবীদের খেয়ে ফেলে।’

অভ্যুত্থানের পর নেতৃত্বের অভাবের বিষয়ে রনি বলেন, ‘আন্দোলনের গতি ছিল, আবেগ ছিল; কিন্তু কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল না। কৃতিত্ব কে নেবে—এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকেই বিভক্ত হয়ে পড়েন। ’বর্তমান তরুণ নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন রনি।

তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজন উদ্দীপনাদায়ক ভাষণ, মানুষের অন্তরে পৌঁছানোর মতো ক্যারিশমা—যা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।’

আন্দোলনের এক বছর পরও জনজীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় হতাশা প্রকাশ করে রনি বলেন, যাদের একসময় মানবতাবাদী মনে করা হতো, তারাই আজ ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। নতুন ধরনের দরবেশ, চাঁদাবাজ ও জালেমের আবির্ভাব হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও মত দেন রনি। তার মতে, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির দাবি জোরালো হচ্ছে।

এটি বড় দলগুলোর জন্য অস্বস্তির কারণ হলেও, এতে করে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের বিপত্তি নিয়ে রনি বলেন, ‘দেড় লাখে যদি আপনি একটা করে আসন দেন তাহলে আমি হয়তো সারা দেশের ভোট মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০টি আসন পেতে পারি। এটা দিয়ে আমার ভাই, ভাগিনা, স্ত্রী, পুত্র যারা আমার পছন্দের তাদের সবাইকে আমি এমপি বানাতে পারলাম। আমি এই সুযোগটা বাদ দিয়ে কেন বিএনপি-আওয়ামী লীগের পেছনে ঘুরতে যাব?’

আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন রনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের এক নম্বর স্টেকহোল্ডার হলো বিএনপি। তারা বিশ্বাস করেন নির্বাচন যেকোনো ভাবে হলেও তারা অন্তত ২৮০টা সিট পেয়ে জয় লাভ করবে। তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির দিকে তাকিয়ে তারা চিন্তা করে এইগুলো তো সবই আমাদের প্রাপ্য। আর এইসব পাওয়ার পথে যারা বাধা দিচ্ছে তারা জাতির শত্রু।

রনি মনে করেন, আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বলেন, ভালো কাজ ও জনকল্যাণ ছাড়া দেশে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্বে সে ধারা দেখা যাচ্ছে না।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর