প্রকাশিত:
২৪ জুন ২০২৫, ১৩:৩৯
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, বিএনপি নেতা ইশরাকের এই ঘটনাকে (মেয়র ঘোষণা) কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকার লেজেগোবরে অবস্থায় পড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার মনে হয় একজন উপদেষ্টার গোয়ার্তুমির কারণে এটা হয়েছে। একজন উপদেষ্টা পুরো সরকারকে মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি কথা নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপলব্ধিটা থাকা উচিৎ ছিল যে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে আসেনি। ফলে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা যাতে দ্রুত হস্তান্তর করা যায় সেই কাজ করা উচিৎ ছিল। আগের প্রত্যেকটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে এই মানসিকতা আমরা দেখেছি। এরা নাকি অন্যরকম তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তাদের নাকি অনেক দায়িত্ব। তো সব করতে গিয়ে তারা একটা লেজেগোবরে অবস্থায় পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আপিল বিভাগ বলেছে যেদিন নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করল, আলোচনা শেষ। এইটা নিয়ে এত ঝামেলা করার দরকার কী ছিল? নির্বাচন কমিশন গেজেট কেন প্রকাশ করল সেটা নিয়ে এনসিপি মিছিল করল যে এটা বিএনপির হয়ে গেছে। অর্থাৎ তার (এনসিপির) বিপক্ষে চলে গেলেই অন্য দলের হয়ে গেল? এই ট্যাগ লাগানোর অভ্যাস তাদের হয়ে গেছে। তখনই বোঝা গেছে আসিফ মাহমুদের দল কোনটা।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই সরকার যে নিরপেক্ষ থাকতে পারছে না সেটা মানুষ বুঝে গেছে।
মাসুদ কামাল বলেন, মনে করেন ইশরাক আন্দোলন করেনি। তাহলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কী হতো? আরেকজন এজাজক এনে বসাতো।
এজাজকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে কোন আইনে, কোন সিস্টেমে? তিনি কি সরকারি কোনো কর্মকর্তা নাকি সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তি? তার যোগ্যতা হচ্ছে, সে এনজিও করতো এবং সে আরেক উপদেষ্টার ফুপাত ভাই। এইটাই তার যোগ্যতা। তার জন্য এই আসিফ মাহমুদ চিঠি লিখেছেন যে এজাজ আহমেদ যোগ্য লোক।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ করে মাসুদ কামাল বলেন, আপনার ইচ্ছামত দেশ চলবে? কে আপনি ভাই? এটা তো শেখ হাসিনার মতো হয়ে যাচ্ছে; তার মনে হচ্ছে যোগ্য ফলে তিনি যোগ্য। আপনাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, দায়িত্ব পালন করেন। আপনার ইচ্ছা পূরণের জন্য এখানে বসানো হয় নাই। এই দেশটা এভাবে চলতে পারে না।
মন্তব্য করুন: