শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

ডাইনোসরের মতো প্রকৃতির ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে মানুষও

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৩ জুন ২০২৫, ১৪:২৮

বিগত কোটি কোটি বছর আগে যেমন ডাইনোসররা তাদের দৈহিক প্রভাব দিয়ে গঠন করত পৃথিবীর প্রকৃতি, আজকের দিনে সেই ভূমিকা পালন করছে মানুষ। তবে বিশাল আকৃতির নয়, বরং প্রভাবের দিক থেকে মানুষ আজকের বিশ্বের আধুনিক ডাইনোসর হয়ে উঠেছে—এমনটিই বলছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা।

‘প্যালিওন্টোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, স্থলজ প্রাণীদের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন ঘটছে উদ্ভিদের ফল ও বীজের আকারেও। আর এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রাণীদের প্রভাব, বিশেষ করে সেইসব প্রাণী যারা বনের গঠন বদলে দেয়।

গবেষণায় বলা হয়, প্রাচীন যুগে ডাইনোসরের মতো বিশালদেহী প্রাণীরা যখন ঘন বনে চলাচল করত, তখন তারা গাছপালা ভেঙে ফেলার মাধ্যমে সূর্যের আলোকে মাটিতে পৌঁছাতে সাহায্য করত। এর ফলে গাছের বড় হয়ে ওঠার প্রয়োজন হতো না, এবং ছোট বীজেই গাছ জন্মাত। কিন্তু যখন বন ঘন হয়ে যেত, সূর্যের আলো কম পৌঁছাত, তখন গাছ বড় হতে বাধ্য হতো এবং স্বাভাবিকভাবেই বড় বীজের চাহিদা বাড়ত।

ডাইনোসর বিলুপ্তির পর বনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চলে আলো কম পৌঁছানো শুরু করে, ফলে লম্বা গাছ ও বড় বীজের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এই পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ইকোসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং’, যেখানে প্রাণীরাই প্রকৃতির গঠন বদলাতে সহায়তা করে।

এই প্রসঙ্গে গবেষকরা তুলনা করছেন মানুষের সঙ্গে। যদিও মানুষের দৈহিক গড়ন ডাইনোসরের মতো বিশাল নয়, কিন্তু প্রকৃতির ওপর প্রভাবের মাত্রায় মানুষ আজ অনেকাংশেই তাদের চেয়ে এগিয়ে। বন উজাড়, রাস্তাঘাট নির্মাণ, শহরায়ণ ও কৃষি সম্প্রসারণ—সবকিছু মিলিয়ে মানুষ আজ প্রকৃতির অভ্যন্তরীণ গঠন বদলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিদ ক্লাইভ জি. জোনস বলেন, ‘মানুষের কারণে বনভূমির গঠন বদলে যাচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু বন কাটা নয়, বিদেশি গাছ লাগানো, গ্রামকে শহরে রূপান্তর, রাস্তা তৈরি—সবকিছুই পরিবেশের স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন করছে।’

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনের প্রকৃতি কেমন হবে, তা এখনই বলা মুশকিল। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির কারণে প্রকৃতির আচরণও আগের নিয়মে চলছে না।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—মানুষ হয়তো দেখতে ডাইনোসরের মতো নয়, কিন্তু তার কর্মকাণ্ডে যে ডাইনোসরের মতোই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিচ্ছে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

 

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর