প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৫, ১২:১৪
দক্ষিণ ইসরায়েলের বেইর-শেভা শহরের সোরোকা মেডিক্যাল সেন্টার ইরানের চালানো হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন। ইরানের হামলায় ইসরায়েলের চারটি স্থল মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিছু ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হলনে একটি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ১৯ জুন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ারশেবার সোরোকা মেক্যাল সেন্টারে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের খবর এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
হাসপাতালের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি ও আহতদের বিষয়টি মূল্যায়ন করছি।’ তিনি আরো জানান, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ’ মুখপাত্র আরো অনুরোধ করেন, ‘এই মুহূর্তে কেউ যেন হাসপাতালে না আসেন।’
টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দাবি করা হয়, হামলার পরপরই ধারণ করা ফুটেজে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেছে এবং মাটিতে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
এদিকে আজ ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেমের আকাশে পৌঁছালে পুরো শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যতদিন প্রয়োজন, ততদিন তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত পিছু হটবে না।
তবে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ গত কয়েক দিনের তুলনায় বর্তমানে অনেক কম। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এর প্রধান কারণ হলো—ইরানের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তারা সফলভাবে ধ্বংস করতে পেরেছে। ইলাম, কুর্দিস্তান, পূর্ব ও পশ্চিম আজারবাইজান এবং কেরমানশাহ প্রদেশে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
ইসরায়েল বলছে, ওইসব এলাকা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা সীমিত হওয়ায় ইরানের কেন্দ্র থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় তা কম বিপজ্জনক।
তারা আরও দাবি করছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের কাছে আরো শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র রয়েছে, যা এখনও ব্যবহৃত হয়নি। এসব অস্ত্র প্রয়োগ করে ইসরায়েলের ওপর আরো বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরান বুধবার জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের দিকে নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেগুলো আগের তুলনায় দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তেহরান দাবি করেছে, এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের মাত্র কয়েকটি রাষ্ট্রেরই রয়েছে।
বুধবার তেল আবিবেও সাইরেন বেজে ওঠে, তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আয়রন ডোমসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্তব্য করুন: