শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

৪১ বছর বয়সেই ৪৪ সন্তানের জননী ’মামা উগান্ডা’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৭ মে ২০২৫, ১৬:৩২

উগান্ডার কাসান্দা জেলায় বসবাসকারী মারিয়াম নাবাতাঞ্জি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মামা উগান্ডা’ নামে পরিচিত, মাত্র ৪১ বছর বয়সেই ৪৪টি সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন।

চিকিৎসকদের মতে, তিনি একটি বিরল জেনেটিক অবস্থায় ভুগছেন, যার নাম হাইপার-ওভুলেশন। এর ফলে প্রতিবার গর্ভধারণে তাঁর শরীরে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং প্রতিবারই তিনি যমজ কিংবা তিন বা চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই অসাধারণ সংখ্যক সন্তান জন্মের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও কঠিন জীবনসংগ্রাম।

মারিয়ামের জীবনে দুর্দশা শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় এক ২৭ বছর বয়সী পুরুষের সঙ্গে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তিনি প্রথম সন্তান জন্ম দেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবার বড় হতে থাকে তবে তা সাধারণ পরিবারের মতো নয়।

একাধিকবার যমজ, তিন সন্তান একসঙ্গে এবং তিনবার চার সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সন্তান সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪ এ। বর্তমানে ৩৮ জন সন্তান জীবিত আছে, বাকি ৬ জন বিভিন্ন সময়ে মারা গেছে।

২০০৩ সালে তাঁর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। তখন বড় সন্তানদের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই মারিয়াম একাই সন্তানদের দেখাশোনা করছেন। মা, বাবা এবং অভিভাবকের ভূমিকায় তিনি একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি রুটি বিক্রি, চুল কাটা, ভেষজ ওষুধ বিক্রি যা পারেন সবই করেন। তিনি কখনো কারো কাছে সাহায্য চাননি, বরং নিজেই সন্তানদের শক্তি বলে মনে করেন।

বর্তমানে মারিয়াম ও তার সন্তানরা চার কামরার একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। প্রতিদিন খাবার জোগাতে প্রায় ২৫ কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে তিনি প্রায়ই আর্থিক সংকটে পড়েন।

তাঁর কয়েকজন বড় সন্তান ইতোমধ্যে তাকে সহযোগিতা করতে শুরু করেছে, কেউ টিউশন নেয়, কেউ ছোট চাকরি করে। তবুও এমন একটি পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানো সহজ নয়।

মারিয়ামের এই বিস্ময়কর জীবন কাহিনি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। অনেক সংবাদমাধ্যম তাঁর সংগ্রামের গল্পও প্রকাশ করেছে। ‘মামা উগান্ডা’ নামে তিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পরিচিত মুখ।

বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন তাঁর জীবনের অনন্য দিক তুলে ধরছে। তাঁর মতে, মাতৃত্ব মানে কেবল সন্তান জন্ম দেওয়া নয়, প্রতিদিন তাদের মানুষ করে তোলা।তিনি বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি শুধু চাই আমার সন্তানরা যেন শিক্ষিত হয়, ভালো মানুষ হয়। আমি সম্মান চাই, করুণা নয়।” এই বক্তব্যের মধ্যেই প্রতিফলিত হয় এক অসাধারণ নারীর সাহস ও আত্মবিশ্বাস।

মারিয়াম নাবাতাঞ্জির জীবন কেবল একটি নারীর ব্যতিক্রমী মাতৃত্ব নয়, বরং এটি এক মহীয়সী মায়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং অদম্য মানসিকতার প্রতীক। তাঁর কাহিনি আমাদের শেখায়, দারিদ্র্য বা একাকিত্ব কখনো একটি মায়ের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে থামিয়ে দিতে পারে না।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর