শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল daajkaal@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার? সচিব পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা
  • সাংবিধানিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে বাড়ছে জল্পনা
  • ‘এক-চীন নীতি’ পুনর্ব্যক্ত, কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার
  • সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব, প্রার্থী নির্বাচন আরও বিস্তৃত হতে পারে
  • ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ইস্যুতে অনলাইন উত্তাপ, জামায়াত আমিরের পোস্টে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
  • গুণীজনদের হাতে একুশে পদক, বিকেলে বইমেলার দ্বার উন্মোচন
  • নতুন সংসদে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধ্যাদেশ উপস্থাপনা নিয়ে শুরু হচ্ছে কার্যক্রম
  • কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠনসহ সাংগঠনিক পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামী
  • দায়িত্ব ছাড়ার পর লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু
  • সংসদের আগে না পরে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনা

পাচারের টাকায় দরিদ্রদের কল্যাণে তহবিল করবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২০ মে ২০২৫, ১১:২৫

দেশের অর্থনৈতিক খাতের ভাঙনের পেছনে অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছে এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ উঠেছে, এই একটি গ্রুপই ছয়টি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে লুট করেছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই আত্মসাৎ করা হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার কোটি টাকার উৎস শনাক্ত হয়েছে।

এই আর্থিক লুটপাটে এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি নাম উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীরও। সালমান এফ রহমান ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের মতো প্রভাবশালীরা দেশ-বিদেশে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য। এসব অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, এবং এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নামে থাকা শেয়ার ও বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এ সকল সম্পদ থেকে গঠিত হবে একটি বিশেষ তহবিল, যা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। একইসাথে, ব্যাংকগুলো থেকে লুট হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়া হবে যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে এ পর্যন্ত জব্দ করা সম্পদের মূল্য এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর বাইরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে আরও দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ। বৈদেশিক বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের মধ্যে ১৬৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ অ্যাটাচমেন্ট হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অর্থ উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান। একইসাথে, তিনি অভিযোগ করেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ বৈধ সীমার বাইরে গিয়ে ৬৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ই-মানি তৈরি করেছে, যা ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম এবং কার্যত অর্থনীতিতে জালিয়াতির শামিল। তার ভাষায়, ‘এক টাকা ব্যাংকে রেখে এক টাকার ই-মানি তৈরি করার নিয়ম থাকলেও তারা তার চেয়ে অতিরিক্ত ই-মানি সৃষ্টি করেছে।’

তবে আশার কথা, পাচার করা অর্থ ফেরত পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশ। গভর্নর জানান, আইনি কাঠামো তৈরি করে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর